কৃষি পরিবেশের কারণে এক এক অঞ্চলে আমরা এক একটি বিশেষ ফসলের প্রাধান্য দেখতে পাই। যদিও ধান, পাট, গম, আলু ইত্যাদি ফসল প্রায় সকল কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে উৎপাদন করা হয়।
পরিবেশ অঞ্চল ১ দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও নিয়ে গঠিত। এখানকার বিশেষ ফসল হচ্ছে লিচু ও আম। এখন এই এলাকায় চা এবং কমলার চাষও শুরু হয়েছে।
পরিবেশ অঞ্চল ২-এ রয়েছে তিস্তার চর। নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু কিছু অংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার বিশেষ ফসল চিনাবাদাম, কাউন। পরিবেশ অঞ্চল ৩ ও ৪ এলাকায় রয়েছে রংপুর ও বগুড়ার অংশবিশেষ। এই এলাকার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তামাক এবং সবজি।
পরিবেশ অঞ্চল ৫ ও ৬ চলন বিল, আত্রাই ও পুনর্ভবা নদী এলাকার নিচু জমি নিয়ে গঠিত যা নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এই এলাকার বৈশিষ্ট্য হলো পাটি, বেত উৎপাদন। এখন তরমুজ ও রসুন ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে।
পরিবেশ অঞ্চল ৭-এ পড়েছে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র চর এলাকাগুলো। এ সকল অঞ্চলের বিশেষ ফসল হচ্ছে চিনাবাদাম ও মিষ্টি কুমড়া।
ব্রহ্মপুত্র পাড় এলাকাগুলো পরিবেশ অঞ্চল ৮এর অন্তর্ভুক্ত। শেরপুর ও জামালপুর জেলার অংশ বিশেষ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। পরিবেশ অঞ্চল ৮-এর বিশেষ ফসল পানিফল। পরিবেশ অঞ্চল ৯-এ পড়েছে শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চল। পরিবেশ অঞ্চল ৯-এ প্রায় সকল ফসলই হয়।
পরিবেশ অঞ্চল ১০ জুড়ে রয়েছে পদ্মার চরাঞ্চল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী জেলার অংশ বিশেষ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানে চিনাবাদাম প্রধান ফসল। পরিবেশ অঞ্চল ১১ পুরাতন গঙ্গা বিধৌত এলাকা। ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরার অনেক এলাকা এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ফসল কার্পাস তুলা। পরিবেশ অঞ্চল ১২-এ রয়েছে পদ্মার পাড়। ফরিদপুর, মাদারীপুর ও পাবনা জেলার অনেক এলাকা এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানে বিশেষ ফসল বোনা আমন ও তাল। পরিবেশ অঞ্চল ১৩-এ রয়েছে খুলনার উপকূল অঞ্চল। এই এলাকার বৈশিষ্ট্য হলো সুন্দরবন। পরিবেশ অঞ্চল ১৪-এ রয়েছে গোপালগঞ্জের বিলের পাড় এলাকা, এখানকার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্ভিদ হলো তালগাছ ও খেজুর। পরিবেশ অঞ্চল ১৫-এ রয়েছে আড়িয়াল বিল এলাকা। এখানে বোনা আমন প্রধান বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ফসল।
পরিবেশ অঞ্চল ১৬-এ মধ্য মেঘনা এলাকা রয়েছে। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের কিছু কিছু এলাকা এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানে জমি মাঝারি উঁচু। এখানে আলুসহ অন্যান্য সবজি ও কলা জন্মায়। পরিবেশ অঞ্চল ১৭-এ রয়েছে কুমিল্লা-নোয়াখালীর সীমান্ত এলাকা। এখানে চিনাবাদাম, ভুট্টাসহ সাধারণ ফসল জন্মায়। পরিবেশ অঞ্চল ১৮-এ রয়েছে ভোলার চর। এখানে নারিকেল ও পান বিশেষ ফসল। পরিবেশ অঞ্চল ১৯-এ রয়েছে পূর্ব মেঘনা এলাকা। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের অনেক এলাকা এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার বিশেষ ফসল বোনা আমন। পরিবেশ অঞ্চল ২০-এ রয়েছে সিলেটের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ হাওর এলাকাগুলো। এখানে বোরো ধান ও মাছ উৎপাদন এলাকাগুলো রয়েছে। পরিবেশ অঞ্চল ২১-এ রয়েছে সুরমা-কুশিয়ারার দুই পাড়। সুনামগঞ্জের অনেক এলাকা এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানে বোরো ধান, মাছ ও সবজি উৎপাদন হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ের পাদদেশগুলো পরিবেশ অঞ্চল ২২-এর অধীনে পড়েছে। নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার কিছু কিছু অংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সুপারি, লেবু, কমলা, খাসিয়া পান এই এলাকার বৈশিষ্ট্য। এখন এসব এলাকায় আগর উৎপাদন হচ্ছে। পরিবেশ অঞ্চল ২৩-এ রয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অঞ্চল। এখানকার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ফসল পান। পরিবেশ অঞ্চল ২৪-এ রয়েছে সেন্টমার্টিন কোরাল দ্বীপ। এখানকার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্ভিদ হচ্ছে নারিকেল।

পরিবেশ অঞ্চল ২৫, ২৬, ও ২৭ এলাকাজুড়ে রয়েছে যথাক্রমে রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুরের বরেন্দ্র অঞ্চল। এখানে উঁচু এলাকায় প্রায় সকল ফসলই ফলে। পরিবেশ অঞ্চল ২৮ মধুপুর থেকে ঢাকার তেজগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত লালমাটি অঞ্চল। এখানকার বিশেষ বৃক্ষ হচ্ছে শাল। এখানকার ফসল হচ্ছে কাঁঠাল ও আনারস। সকল পাহাড়ি অঞ্চল পরিবেশ অঞ্চল ২৯-এর অন্তর্গত। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজার ছাড়াও অন্যান্য জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার বিশেষ ফসল চা। পরিবেশ অঞ্চল ৩০-এ রয়েছে আখাউড়ার লালমাটি অঞ্চল। এখানকার প্রধান ফসল কাকরোল এবং মুকুন্দপুরী পেয়ারা।
এই বিস্তৃত বিবরণের মূল উদ্দেশ্য হলো এই কথাটি জানানো যে, বাংলাদেশ ছোট দেশ হলেও এর কৃষি বৈচিত্র্য বিশাল। যাহোক, পরিবেশ অঞ্চল ৩, ৯, ১১ এবং আংশিকভাবে ১৬ উদার কৃষি পরিবেশ এলাকা। এই এলাকাজুড়ে উৎপন্ন ধান-পাটসহ নানা ফসলের জন্য বাংলাদেশ 'সোনার বাংলা' নামে অভিহিত।
| কাজ: তোমার অঞ্চলে কী ধরনের ফসল ফলে তার একটি তালিকা তৈরি করে শ্রেণিতে উপস্থাপন কর। |
Read more